ঢাকা সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬ , ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেলার আড়ালে অশ্লীল নৃত্যের আসর

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৩ ঘন্টা আগে
মেলার আড়ালে অশ্লীল নৃত্যের আসর
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে তাঁত ও বস্ত্র শিল্প ও বাণিজ্য মেলার নামে নানা অনিয়ম ও বিতর্কের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দেশীয় তাঁত ও বস্ত্রশিল্পের প্রসারের নামে অনুমতি নেওয়া হলেও বাস্তবে মেলার বড় অংশজুড়ে চলছে বাণিজ্যিক বিনোদন, আর রাত গভীর হলে বসছে অশ্লীল নৃত্যের আসর। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন সচেতন মহল।

‎সরেজমিনে মেলা ঘুরে দেখা যায়, মেলার নামের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দেশীয় তাঁত ও বস্ত্রশিল্পের প্রদর্শনী বা ঐতিহ্য তুলে ধরার উদ্যোগ খুব একটা চোখে পড়ে না। বরং দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সার্কাস ও বিভিন্ন বিনোদনমূলক আয়োজন। স্থানীয়দের অভিযোগ, শিল্প ও সংস্কৃতির প্রচারের পরিবর্তে মেলাটি ক্রমেই বাণিজ্যিক লাভের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

‎দর্শনার্থী ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিদিন রাত পর্যন্ত উচ্চশব্দে গান-বাজনা এবং নৃত্যানুষ্ঠান চলতে থাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ ধরনের কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
‎সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, মেলা প্রাঙ্গণের সন্নিকটেই অবস্থিত বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং কেন্দ্রীয় কবরস্থান। স্থানীয়দের ভাষ্য, গভীর রাত পর্যন্ত মাইকের বিকট শব্দে হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও তাদের স্বজনরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। একই সঙ্গে কবরস্থানের মতো একটি মর্যাদাপূর্ণ ও ধর্মীয়ভাবে সংবেদনশীল স্থানের পাশেও এমন আয়োজনকে অনেকে অসম্মানজনক বলে মনে করছেন।

‎স্থানীয়রা বলেন, তাঁত ও বস্ত্র মেলার নামে অনুমতি নিয়ে যদি রাতভর নাচ-গান আর অশালীন পরিবেশনা চলে, তাহলে সেই আয়োজনের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
‎অভিযোগ রয়েছে, মেলার নামে এসব কর্মকাণ্ড দীর্ঘদিন ধরে চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো অভিযান বা কঠোর পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। ফলে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও নানা প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।

‎বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, এ ধরনের অশ্লীলতার কোনো সুযোগ নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও দেখার পর আয়োজকদের ডেকে সতর্ক করা হয়েছে। প্রশাসনের লোকজন নিয়মিত সেখানে নজরদারি করছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

‎বালিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রব তালুকদার বলেন, উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, বিষয়টি জানার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

‎এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, মেলার নামে কোনো ধরনের অশালীন পরিবেশনা, শব্দদূষণ কিংবা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হলে তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি মেলার অনুমতি, শর্তাবলি এবং আয়োজকদের কার্যক্রম খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।


কমেন্ট বক্স